০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি’র সফল তৎপরতা

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
​চাঁপাইনবাবগঞ্জ  প্রতিনিধি

​আজ বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের পদ্মা নদীতে একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনার পর, নিখোঁজ বাংলাদেশী যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর মধ্যে এক তাৎক্ষণিক ও সফল সমন্বয় পরিলক্ষিত হলো। বিএসএফ কর্তৃক ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে জীবিত উদ্ধারের পর, বিজিবি’র ৫৩ ব্যাটালিয়ন তাদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট হতে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে, প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।​এ সময় নৌকায় থাকা মোঃ ওয়াসিম (২৩), পিতা- মোঃ শামছুল আলম সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাকি ১১ জন যাত্রী পানিতে নিখোঁজ হন।নৌকা ডুবির খবর পাওয়ার পরপরই, তৎপর হয়ে ওঠে বিজিবি। আনুমানিক ৫:৫০ মিনিটে (১৭৫০ ঘটিকায়), ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার, বাখেরআলি বিওপি ও ফরিদপুর বিওপি কমান্ডারদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানান। বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং সফলভাবে ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে (০৪ জন পুরুষ, ০৩ জন মহিলা ও ০৩ জন শিশু) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।উদ্ধারকৃত যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আজ রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।​উদ্ধারকৃত যাত্রীদের সকল প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের নিকট আত্মীয় মোঃ ইসমাইল হোসেনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেনঃ মোঃ রাসেল (২৬), পিতা- মোস্তফা। মোঃ ইব্রাহিম (৫০), পিতা- মৃত আব্দুর রউফ। সওদাগর (৪০), পিতা- আব্দুর রউফ।মোঃ ইব্রাহিম (৬০), পিতা- মৃত আবুল হোসেন। সখিনা (৪৫), স্বামী- মোঃ মোস্তফা। নিলুফা (৩৫), স্বামী- মতিউর। তানিয়া (২২), স্বামী- মোঃ সোহেল এবং তার ২০দিন বয়সী শিশু সন্তান। সানাউল্লাহ (৯), পিতা- মতিউর। আল আমিন (৯), পিতা- ইসলাম উদ্দিন।সকলের গ্রাম- জহুরপুর (বকরী পাড়া), পোস্ট- নারায়নপুর, থানা ও জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
​প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, উদ্ধারকৃত সকলেই সুস্থ্য রয়েছেন।উক্ত নৌকাডুবির ঘটনায়, একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা (৬০), পিতা- মৃতঃ আলতাব হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন  খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির ঐক্যের প্রতিক : গোলাম মোস্তফা

উদ্ধারকৃত যাত্রীদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধারেও যথাযথ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি’র সফল তৎপরতা

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি’র সফল তৎপরতা

আপডেটের সময় : ১০:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
​চাঁপাইনবাবগঞ্জ  প্রতিনিধি

​আজ বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের পদ্মা নদীতে একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনার পর, নিখোঁজ বাংলাদেশী যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর মধ্যে এক তাৎক্ষণিক ও সফল সমন্বয় পরিলক্ষিত হলো। বিএসএফ কর্তৃক ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে জীবিত উদ্ধারের পর, বিজিবি’র ৫৩ ব্যাটালিয়ন তাদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট হতে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে, প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।​এ সময় নৌকায় থাকা মোঃ ওয়াসিম (২৩), পিতা- মোঃ শামছুল আলম সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাকি ১১ জন যাত্রী পানিতে নিখোঁজ হন।নৌকা ডুবির খবর পাওয়ার পরপরই, তৎপর হয়ে ওঠে বিজিবি। আনুমানিক ৫:৫০ মিনিটে (১৭৫০ ঘটিকায়), ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার, বাখেরআলি বিওপি ও ফরিদপুর বিওপি কমান্ডারদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানান। বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং সফলভাবে ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে (০৪ জন পুরুষ, ০৩ জন মহিলা ও ০৩ জন শিশু) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।উদ্ধারকৃত যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আজ রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।​উদ্ধারকৃত যাত্রীদের সকল প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের নিকট আত্মীয় মোঃ ইসমাইল হোসেনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেনঃ মোঃ রাসেল (২৬), পিতা- মোস্তফা। মোঃ ইব্রাহিম (৫০), পিতা- মৃত আব্দুর রউফ। সওদাগর (৪০), পিতা- আব্দুর রউফ।মোঃ ইব্রাহিম (৬০), পিতা- মৃত আবুল হোসেন। সখিনা (৪৫), স্বামী- মোঃ মোস্তফা। নিলুফা (৩৫), স্বামী- মতিউর। তানিয়া (২২), স্বামী- মোঃ সোহেল এবং তার ২০দিন বয়সী শিশু সন্তান। সানাউল্লাহ (৯), পিতা- মতিউর। আল আমিন (৯), পিতা- ইসলাম উদ্দিন।সকলের গ্রাম- জহুরপুর (বকরী পাড়া), পোস্ট- নারায়নপুর, থানা ও জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
​প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, উদ্ধারকৃত সকলেই সুস্থ্য রয়েছেন।উক্ত নৌকাডুবির ঘটনায়, একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা (৬০), পিতা- মৃতঃ আলতাব হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন  খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির ঐক্যের প্রতিক : গোলাম মোস্তফা

উদ্ধারকৃত যাত্রীদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধারেও যথাযথ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।