১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়ায় ডুবছে দেশ

 

মো: হাবিব হাসান ,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

অনলাইন জুয়ার প্রলোভনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২ থেকে ১০ গুণ লাভের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেটিং সাইটে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এসব লেনদেনে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আনোয়ার কাইছার, আশরাফ ইসলাম ও সুহাগ পারভেজ ওরফে সেলিম পারভেজকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জিয়নকেশ ও ইউএসএগ্রিমেন্টসহ বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চক্রটির কয়েকজন সমন্বয়কারী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। সুহাগ পারভেজ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জিয়নকেশ ও ইউএসএগ্রিমেন্ট সাইটের মাধ্যমে কয়েক লাখ থেকে প্রায় ৭৯ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

আরো পড়ুন  খুলনা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা সভাপতি জনি, সম্পাদক তুহিন

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জিয়নকেশ, ইউএসএগ্রিমেন্ট, মেলবেট, মোস্টবেট, ওয়ানএক্সবেট, বেটউইনার ও টুয়েন্টিটুবেটসহ বিভিন্ন বেটিং সাইটের মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন হচ্ছে। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সিআইডি তিন শতাধিক এমএফএস এজেন্ট নম্বর শনাক্ত করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাসুদ ও আবু নোমান নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব লেনদেনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ডিবি ও সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কে মাস্টার, সুপার ও সাব-এজেন্ট পর্যায়ে লোকজন কাজ করে এবং এমএফএস এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আইটি বিষয়ে দক্ষ কিছু তরুণও সাব-এজেন্ট হিসেবে এসব চক্রে যুক্ত হচ্ছেন। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন ও কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের একটি অংশ এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।

ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশিদ বলেন, বিভিন্ন কারণে অনলাইন জুয়া ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং চলছে। শনাক্ত হওয়া সাইট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বিদেশ থেকে পরিচালিত বেটিং সাইট, এমএফএস এজেন্ট ও বিভিন্ন স্তরের সাব-এজেন্টের কারণে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে কেউ এই চক্রের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Tag :
জনপ্রিয়

এক দিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ভূজপুরে ফলজ গাছ লাগালেন ইউপি চেয়ারম্যান শিপন

অনলাইন জুয়ায় ডুবছে দেশ

আপডেটের সময় : ০৩:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মো: হাবিব হাসান ,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

অনলাইন জুয়ার প্রলোভনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২ থেকে ১০ গুণ লাভের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেটিং সাইটে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এসব লেনদেনে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আনোয়ার কাইছার, আশরাফ ইসলাম ও সুহাগ পারভেজ ওরফে সেলিম পারভেজকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জিয়নকেশ ও ইউএসএগ্রিমেন্টসহ বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চক্রটির কয়েকজন সমন্বয়কারী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। সুহাগ পারভেজ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জিয়নকেশ ও ইউএসএগ্রিমেন্ট সাইটের মাধ্যমে কয়েক লাখ থেকে প্রায় ৭৯ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

আরো পড়ুন  বিশ্বনাথে ঘরে ঢুকে মারধর-লুট ও ভাংচুরের ঘটনায় আ’লীগ-ছাত্রলীগের ৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা বকুলের মামলা

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জিয়নকেশ, ইউএসএগ্রিমেন্ট, মেলবেট, মোস্টবেট, ওয়ানএক্সবেট, বেটউইনার ও টুয়েন্টিটুবেটসহ বিভিন্ন বেটিং সাইটের মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন হচ্ছে। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সিআইডি তিন শতাধিক এমএফএস এজেন্ট নম্বর শনাক্ত করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাসুদ ও আবু নোমান নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব লেনদেনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ডিবি ও সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কে মাস্টার, সুপার ও সাব-এজেন্ট পর্যায়ে লোকজন কাজ করে এবং এমএফএস এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আইটি বিষয়ে দক্ষ কিছু তরুণও সাব-এজেন্ট হিসেবে এসব চক্রে যুক্ত হচ্ছেন। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন ও কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের একটি অংশ এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।

ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশিদ বলেন, বিভিন্ন কারণে অনলাইন জুয়া ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং চলছে। শনাক্ত হওয়া সাইট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বিদেশ থেকে পরিচালিত বেটিং সাইট, এমএফএস এজেন্ট ও বিভিন্ন স্তরের সাব-এজেন্টের কারণে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে কেউ এই চক্রের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।